প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সুন্দরবনের করমজল প্রজনন কেন্দ্রে বন্যপ্রাণীর শরীর থেকে ভাইরাস ও রোগজীবাণু নির্ণয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম।
মাহমুদ হাসান
জানা গেছে, করমজল প্রজনন কেন্দ্রে কুমির, হরিণ, বানরসহ নানা প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। সুন্দরবনে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে করমজলে ভিড় করেন পর্যটকরা। বন্যপ্রাণীদের ছোটাছুটি দেখে অনেকে আদর করতে স্পর্শ করেন। এমনকি খাবার খাওয়ান নিজ হাতে। তবে অনেকেই জানেন না–এসব প্রাণীর দেহেও থাকতে পারে করোনার মতো অন্য কোনো ভয়াবহ ভাইরাস কিংবা রোগের জীবাণু।
এমন ভাবনা থেকেই ‘সুফল’ নামের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে বন বিভাগ। করোনার মতো অন্য কোনো ভাইরাস যেন ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্যই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এরই মধ্যে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর শরীর থেকে ভাইরাস ও রোগজীবাণু নির্ণয়ে নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘এসব প্রাণীর সংস্পর্শে বা আঁচড়ে বাচ্চাদের মাঝে যদি কোনো রোগজীবাণু প্রবাহিত হয়, তাহলে এটা অবশ্যই আমাদের জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনবে।’
প্রজনন কেন্দ্রটি সৃষ্টির ২০ বছর পর এমন উদ্যোগ নিল কর্তৃপক্ষ। সন্দেহ সঠিক হলে বন্যপ্রাণীদের চিকিৎসার আওতায় আনা হবে বলে জানায় বন বিভাগ।
বাগেরহাটের মোংলা করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের বন কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ধনুটিক্স রোগ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এই সুফল প্রকল্পের আওতায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরীক্ষাগুলো করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত পর্যটকদের সংস্পর্শে আসা ১০টি হরিণ ও ১০টি বানরের রক্তের নমুনা নিয়েছে ৫ সদস্যের মেডিকেল টিম।



0 coment rios: