জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দাকোপ ও কয়রার অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (লজিক)
জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পাশে ‘লজিক’/ ঢাকা ট্রিবিউন
উপকূলীয় অঞ্চলের সিংহভাগ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব ফেলে এই অঞ্চলে। জীবন ও জীবিকাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে নারীদের পড়তে হয় বিপাকে।
খুলনার দাকোপের তীলডাঙ্গার নারী স্বপ্না; তিনি মুরগি এবং হাঁস পালন শুরু করেছিলেন। তার আয়ের একমাত্র উৎসও ছিল এই খামার। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে তার খামারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া পুকুর প্লাবিত হওয়ায় তিনি মাছও ধরতে পারেননি। ফলে নতুন কিছু করতে চাচ্ছেন তিনি।
শুধু স্বপ্নাই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দাকোপ ও কয়রার এমন অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (লজিক)। প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের সাবলম্বী করা ও পরিস্থিতির সঙ্গে টিকে থাকার প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে সংস্থাটি।
এ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে দাকোপ ও কয়রা উপজেলার ৭ হাজার ৫২ জন নারীকে নিয়ে কাজ চলছে। জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে, এ টাকা দলগতভাবে কাজে লাগানোর উপায় খোঁজা হচ্ছে।
লজিকের প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পের অর্থায়নে রয়েছে ইইউ ও সুইডেন। কারিগরি সহায়তা প্রদান করছেন ইউএনডিপি ও ইউএনসিডিএফ। ২০১৮ সালে খুলনায় এ প্রকল্প শুরু হয়। ২০১৯ সালে প্রকল্পের সিআরএফ (কমিউনিটি রেজিলেন্স ফান্ড) এর কার্যক্রম শুরু হয়।
খুলনার দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ্বাস বলেন, “উপজেলায় যত প্রকল্প চলমান রয়েছে, তার মধ্যে লজিক প্রকল্পের আওতার প্রতিটি কাজই সফলভাবে চলছে। এটি স্থানীয় সরকারের আওতায় চলা সরকারি জলবায়ু প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় অস্বচ্ছলরা খুবই উপকৃত হচ্ছেন। তরমুজ চাষে একটি গ্রুপ ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৮ লাখ টাকা লাভ করেছে।”



Nice
উত্তরমুছুন