ঢাকার বাইরেও ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন নতুন নতুন রোগী। বরিশাল, যশোর ও ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এডিস নিধনে উদ্যোগ না নেয়ার অভিযোগ বাসিন্দাদের।
ডেঙ্গুর অবাধ বিচরণ রাজধানী ছাপিয়ে এখন দেশের জেলাগুলোতে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডেঙ্গুর বাহক এডিস। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে রোগী। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, মশা নিধনে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু।
তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন ও ঝোপঝাড় ধ্বংসের পাশাপাশি দিনে ও রাতে মশারি টানিয়ে ঘুমানের পরামর্শ যশোর অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. গোবিন্দ পোদ্দার। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রকোপ বেড়েছে। আমাদের একটু সচেতন হতে হবে। সেই সঙ্গে দিনে ও রাতে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে।
ফরিদপুর
ফরিদপুরে এডিশ মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়ছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাত জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ফরিদপুর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ৩৫ রোগী চিকিৎসাধীন।
ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় সর্বমোট ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। তার মধ্য ৮০ জন রোগী ছাড়পত্র নিয়ে চলে যায়। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন ৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টা ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে সাত জন। বর্তমানে মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি আছে ১২ রোগী। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।
যশোর
যশোরের অভয়নগরে ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব থাকলেও নেই কোনো সতর্কতা। হাসপাতালে মশারির মধ্যে রাখা যাচ্ছে না রোগীদের। আর যেসব এলাকা থেকে রোগী আসছে সেখানেও মশা নিধন ও ঝোপঝাড় ধ্বংসের কোনো উদ্যোগ নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, অনিহার কারণে রোগীরা মশারি টানাচ্ছেন। তবে ডেঙ্গু থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
চলতি বছর আগস্ট মাসের শুরু থেকে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৩৭৫ জন এ রোগের চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে ২৯৭ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সবচেয়ে বেশি ২৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে অভয়নগর উপজেলায়। বিশেষ করে উপজেলার চলিশিয়া, গাজীপুর, সমশপুর, গুয়াখোলা ও বুইকারা এলাকায় সর্বাধিক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ নিয়ে তেমন কোন সতর্কতা নেই। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা মশারির বাইরেই সারাদিন অতিবাহিত করছে। এতে রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, মশা নিধনে পৌরসভা ও ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগ।
চিকিৎসকরা বলছেন, অনিহার কারণে রোগীরা মশারি টানাচ্ছেন না। তবে ডেঙ্গু থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। সেই সঙ্গে দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সিভিলে সার্জন অফিসের তথ্য মতে, বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।



0 coment rios: