ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তথা বিসিসিআইয়ের সভাপতি পদে সৌরভ গাঙ্গুলি আর থাকছেন না-এ খবর চাউর হয়েছিল আগেই। শেষমেশ খোদ সৌরভও দিয়েছেন সেই আভাস। এবার সামনে এলো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি, বিজেপিতে যোগ দিতে বলা হয়েছিল সাবেক ভারতীয় অধিনায়ককে। তাতে রাজি হননি সৌরভ। আর সে কারণেই অপসারিত করা হচ্ছে তাকে।
ছবি-সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও দাবি তুলেছেন, বিজেপিতে যোগদান না করার জন্যই সৌরভ গাঙ্গুলিকে বোর্ড প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে কি না, ওই দলটিকে (বিজেপি) তার জবাব দিতে হবে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য বিষয়টিকে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলেই দাবি করা হচ্ছে। তবে ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনকে যারা বহুদিন ধরে চেনেন তারা অনেকেই বলছেন ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক আছেই।
বিসিসিআইয়ের নির্বাচনের বাকি আরও সাতদিন। আগামী ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। তার আগেই পূর্বাভাস মিলেছে বিসিসিআইয়ের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে। অবশ্য বোর্ডসহ সভাপতি রাজীব শুক্লার কথায় স্পষ্ট, এবার সভাপতি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন রজার বিনি।
রাজীব শুক্লা মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বলেন, ‘আমি সহ সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছি। রজার বিনি সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, জয় শাহ সচিবের পদে এবং আশিস শেলার কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন যে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাবেন।’
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) বন্ধন ব্যাংকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে কলকাতার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে উপস্থিত হয়ে সৌরভ বলেন, ‘আমি অতীত নিয়ে ভাবি না। ভবিষ্যতে বাঁচি। শচীন-দ্রাবিড়রা একশোর বেশি টেস্ট খেলেছে। ওদের সঙ্গে আমিও খেলেছি। লর্ডসের সেঞ্চুরি করেছিলাম শনিবার। এত বছর পরেও ভুলিনি। স্কোরবোর্ডে তাকাইনি। ধাপে ধাপে প্রথমে ২০ ও তারপরে ৩০। আমি এভাবেই এগিয়েছি। স্পোর্টসে সাফল্য রাতারাতি আসে না। এক রাতে কেউ চন্দ্রশেখর ঘোষ, নরেন্দ্র মোদি, শচীন টেন্ডুলকার হতে পারেন না।’
সৌরভ আরও বলেন, ‘আমি একসময় প্রশাসক হিসেবে কাজ করেছি। এখন সেখান থেকে বেরিয়ে এর চেয়েও বড় কিছু করতে পারি। আমি সিএবি ও বিসিসিআই সভাপতি হয়েছি ঠিকই, কিন্তু খেলোয়াড় জীবনের ১৫ বছর সেরা। জানতাম দলে থাকতে গেলে রান করতে হবে। আমি মানি জীবনে বাঁচতে গেলে ধনকুবের হওয়া লাগে না।’
এদিকে, সৌরভের সিএবির প্রেসিডেন্ট পদে বসা নিয়ে কোনো জটিলতা আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি দেখা যায়, নিয়মের দিক থেকে কোনো বাধা নেই তা হলে ফের রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার সর্বোচ্চ পদে বসার সম্ভাবনা আরও গতি পাবে। সৌরভ এর আগে জগমোহন ডালমিয়ার আমলে সিএবি সচিব ছিলেন। ডালমিয়ার মৃত্যুর পরে সংস্থার প্রেসিডেন্ট হন।



0 coment rios: